কাঠগড়ায় স্বামীকে দেখে আপ্লুত রুপা, চাইলেন স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে

  নিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিতঃ দুপুর ০১:২৩, সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫, ১৩ মাঘ ১৪৩১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 

সকালে শীতের কুয়াশা কাটেনি তখনো। কুয়াশার চাঁদর ভেদ করে আজ সকালে প্রিজন ভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় একাত্তর টিভির প্রধান প্রতিবেদন ফারজানা রুপাকে। এরপর তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় নারীদের সেলে রাখা হয়।
একইভাবে সকালে কেরানিগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে রুপার স্বামী একাত্তর টিভি থেকে চাকরিচ্যুত বার্তা প্রধান শাকিল আহমেদকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর হাজতখানার পুরুষ সেলে রাখা হয়। আলাদা সেলে রাখায় তখনো দেখা হলো এই সাংবাদিক দম্পতির।

কিছুক্ষণ পর মিরপুর থানার এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান আদালতে হাজির করতে প্রস্তুত করা হয় রুপাকে। হাতে হাত কড়া, গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট পরানো হয় তাকে। এরপর রুপাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, দেশ টিভির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আরিফ হাসানের সঙ্গে সারি সারি করে এজলাসে তোলা হয়।

এজলাসে ঢুকে কাঠগড়ায় উঠার পরেই রুপা তার স্বামী শাকিল আহমেদকে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু দেখা না মেলায় উদ্বিগ্ন দেখা যায় তাকে। কয়েক মিনিট পর সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেননের সঙ্গে হাজতখানা থেকে সাংবাদিক শাকিলকে এজলাসে তোলা হয়। শাকিল কাঠগড়ায় উঠতেই যেন প্রাণ ফিরে পান রুপা। আবেগে আপ্লুত হয়ে এই দুই দম্পত্তি নিজেদের ভিতর আলাপ করতে থাকেন। অনেক কথা নিজেরা কখনো কানে কানে কখনো হাসি মুখে গল্প করতে থাকেন তারা। কাঠগড়ায় যতক্ষণ সময় ছিলেন নিজেদের ভিতর কথা বলতে থাকেন তারা।

এরপর নানা আসামির মামলায় শুনানি শুরু হয়। কিন্তু সেদিকে তাদের যেন মন নেই। কিছুক্ষণ পরে যখন মিরপুর থানার একই মামলায় এই সাংবাদিক দম্পতির দুজনের গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি শুরু হয়। এসময় ফারাজানা রুপা আদালতের কাছে কথা বলার অনুমতি চান। এসময় বিচারক তাকে আইনের ভিতরে থেকে কথা বলতে অনুমতি দেন। অনুমতি পেয়ে রুপা কাঠগড়ার সামনের দিকে এসে বলেন, "আমার ছোট্ট শিশু সন্তান আছে। আমি আর আমার স্বামী দুইজনই কারাগারে। ৬ মাস হয়ে গেছে। আমাকে জামিন দিন। আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে চাই।"

শুনানি শেষে আদালত রুপা ও শাকিলের আবেদন নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

এতো মন মরা হতে দেখা যায় রুপা ও শাকিলকে। তাদের কাছে এবিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সাংবাদিক শাকিল বলেন, "কথা বলতে মানা। মুখ বন্ধ আমাদের।" এরপর একে একে অন্য মন্ত্রী এমপি আসামিদের মতো রুপা ও শাকিলকেও কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আবার প্রিজনভ্যানে করে সাংবাদিক রুপাকে কাশিমপুর কারাগারে ও শাকিলকে ঢাকার কেরান কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।

Share This Article