কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে টিস্যু পেপারে চিঠি লিখলেন দীপু মনি

- আদালতের অনুমতি ছাড়া চিঠি লেখা বেআইনী : পিপি
নতুন মামলায় গ্রেপ্তার শুনানিতে এসে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে টিস্যু পেপারে চিঠি লিখেছেন সাবেক শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তবে আদালতের অনুমতি ছাড়া চিঠি লেখা বা হস্তান্তর করা বেআইনী বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
গতকাল সোমবার সকালে যাত্রাবাড়ী থানার পৃথক দুই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়। পরে সকাল ১০ টার দিকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ পাঁচজনের দুটি মামলায় রিমান্ড আবেদনের শুনানি চলছিল। একপর্যায়ে দেখা যায়, দীপু মনির বাঁ হাতে কয়েকটি টিস্যু পেপার। আর ডান হাতে কলম। দীপু মনি টিস্যুর ওপর কিছু লিখতে শুরু করেন। প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে টিস্যু পেপারের ওপর ‘চিঠি’ লেখেন দীপু মনি। কাঠগড়ার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির (আইনজীবীর পোশাক পরা) হাতে দীপু মনি চিঠিটি তুলে দেন। এরপর ওই ব্যক্তি নিজের মুঠোফোনে চিঠির ছবি তোলেন। তিনি টিস্যু পেপার তার বাঁ হাতে ভাঁজ করে রাখেন। চিঠির ছবি তোলার বিষয়টি তিনি আকারে-ইঙ্গিতে দীপু মনিকে জানান।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চিঠি লেখার বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আদালতে দীপু মনির চিঠি লেখার বিষয়টি তার নজরে আসেনি। যদি নজরে আসত, তাহলে অবশ্যই আদালতের দৃষ্টিতে বিষয়টি নিয়ে আসতাম। কারণ, একজন আসামি আদালতের হেফাজতে থাকেন। আদালতের অনুমতি ছাড়া এখানে তিনি চিঠি লিখতে, হস্তান্তর করতে পারেন না; কিংবা আইনজীবী ব্যতীত অন্য কারও সঙ্গে কথা বলা যায় না। এটা বেআইনী।
দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠি লিখেছেন কি না, তা নজরে আসেনি। আদালতে শুনানিতে ব্যস্ত ছিলেন।
এদিকে গতকাল সকালে কনকনে শীতে প্রিজন ভ্যানে করে দীপু মনিসহ মন্ত্রী-এমপি মিলে মোট ১৩ জনকে কারাগার থেকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। এরপর কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় সারি সারি করে হাঁটিয়ে এজলাসে তোলা হয়। এসময় আসামিদের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। আসামিদের অনেককে বিমর্ষ মুখে দেখা যায়। একই আদালতে শুনানি হওয়ায় ১৩ জনকে একই কাঠগড়ায় তোলা হয়। এতে করে আসামিরা গাদাগাদি করে থাকায় নড়াচড়া করার মতো ভালো অবস্থা ছিল না। এর ফাঁকেই চিঠি লেখেন দীপু মনি। এরপর গ্রেপ্তার শুনানি শেষে প্রিজনভ্যানে করে আসামিদের ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।