গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন
টঙ্গীতে মাদক কারবারির হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্চিত

টঙ্গীর তিলারগাতী এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ায় হাজী এম এ গনি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশনের সহ সাধারণ সম্পাদক লুতফর রহমান লিটনের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তিলারগাতী এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি বাবা জাহাঙ্গীর ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রধান শিক্ষককে বাঁচাতে এগিয়ে এসে হামলার স্বীকার হন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ আকাশ, স্থানীয় যুবদল নেতা মনির হোসেন, নাজিম উদ্দীনসহ বেশ কয়েকজন। এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক। শনিবার বিকেলে হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অপরদিকে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে প্রাইভেট স্কুল অ্যাসোসিয়েশন ও বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। রবিবার এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা যায়, টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন তিলারগাতী এলাকার হাজী এম এ গনি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই বাড়ি হওয়ার সুবাধে মাদক কারবার পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে বাবা জাহাঙ্গীর ও তার ছেলে জিহাদসহ পুরো পরিবার। স্কুলের পাশে বসেই প্রকাশ্যে মাদক সেবন করে মাদকসেবীরা, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব ফেলে। মাদকের গন্ধে বিঘ্নিত হয় শিক্ষা কার্যক্রম, এবং সন্ধ্যায় স্কুলের বারান্দা ও মাঠে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময় জাহাঙ্গীরকে নিষেধ করা হলেও কর্নপাত করেননি তিনি। একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতিবাদ করলে জাহাঙ্গীর তার ছেলে জিহাদসহ স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালায়। এতে প্রধান শিক্ষক লিটনসহ ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
পরে আহতদের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে গুরুতর আহত শামীম ও মনিরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ ইসকান্দর হাবীবুর রহমান জানান, “এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”