টঙ্গির ইজতেমার মাঠ প্রস্তুতির প্রায় ৭০% কাজ সম্পন্ন

  টঙ্গি প্রতিনিধি
  প্রকাশিতঃ রাত ০৮:২৯, সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৫, ৬ মাঘ ১৪৩১
নতুন ধ্বনি প্রতিনিধির তোলা ছবি
নতুন ধ্বনি প্রতিনিধির তোলা ছবি

 

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আগামী ৩১ জানুয়ারি শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এ উপলক্ষে পুরো ইজতেমা মাঠে এখন হাজারো মুসল্লির ব্যস্ততা। কেউ দলবেধে মাঠে দাগ কাটছেন, কেউ শামিয়ানা টাঙাচ্ছেন, কেউবা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছেন। অন্যদিকে, ঠেলা গাড়িতে মালামাল আনা-নেওয়া, বৈদ্যুতিক লাইন ও অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণের কাজও চলছে।

তাবলিগ জামাতের বিবদমান বিরোধের কারণে এবারও বিশ্ব ইজতেমা আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্বে ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা ইজতেমা করবেন, এবং চার দিন বিরতি দিয়ে ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাওলানা সাদ কান্ধলভী অনুসারীরা ইজতেমা পালনের কথা। তবে গত ১৭ ডিসেম্বর ইজতেমা মাঠে সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনায় দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বর্তমানে মাঠে কাজ করছেন মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা।

প্রথম পর্বের ইজতেমার আয়োজকরা জানান, ৩১ জানুয়ারি ইজতেমা উপলক্ষে মাঠ প্রস্তুতির কাজ প্রায় ১৫ দিন আগে থেকে শুরু হয়েছে। প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাবলীগ জামাতের সাথিরা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৭০% কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি ৩০% কাজ শেষ হতে আরও ১০-১২ দিন সময় লাগবে।

প্রথম পর্বের গণমাধ্যম সমন্বয়ক মো. হাবিবুল্লাহ রায়হান কালবেলা কে বলেন, "মাঠে বড় কাজগুলো এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এখন বৈদ্যুতিক লাইন, মাইক স্থাপনসহ আরও কিছু বাকি আছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজগুলো সুন্দরভাবে শেষ হবে। প্রতিদিন হাজারো সাথি ভাইয়েরা এসে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।"

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তুরাগ নদী সংলগ্ন ইজতেমা মাঠে হাজারো মানুষের আনাগোনা। মাঠ প্রস্তুতির কাজ চলছে পুরোদমে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত তাবলিগ জামাতের সাথি ও মাদ্রাসার ছাত্ররা পরস্পর সহায়তায় কাজ করছেন। কেউ বাঁশের সঙ্গে চট বেঁধে শামিয়ানা টাঙাচ্ছেন, কেউ শৌচাগার নির্মাণ করছেন, আবার কেউ ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছেন।

ঢাকার মালিবাগ এলাকা থেকে আসা তাবলিগ জামাতের সাথি মো. লিয়াকত হোসেন বলেন, "ইজতেমা উপলক্ষে আমরা প্রতিবছরই মাঠে এসে স্বেচ্ছায় কাজ করি। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গেও ইজতেমার মাঠে এসে কাজ করতাম। সবাই একসঙ্গে কাজ করার আনন্দই আলাদা।"

গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে আসা মো. ইমরান হোসেন বলেন, "আমরা ১০ সদস্যের একটি দল সকাল ৮ টায় ইজতেমা মাঠে প্রবেশ করেছি। সারাদিন কাজ করে সন্ধ্যায় আবার কোনাবাড়ীতে ফিরে যাব। এখানে কারও নির্ধারিত কাজ নেই, সবাই নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে যেটা করনীয় তাই করছেন।"

তাবলিগ জামাত সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে ইজতেমা ১৯৬৩ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এটি তিন দিন ধরে অনুষ্ঠিত হতো। মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ২০১০ সাল থেকে ইজতেমা দুই পর্বে তিন দিন করে আয়োজন করা হতো। তবে, বিরোধের কারণে ২০১৮ সাল থেকে মাওলানা জুবায়ের ও সাদ কান্ধলভী অনুসারীরা আলাদাভাবে তিন দিন করে ইজতেমা আয়োজন শুরু করেন।

Share This Article