মেডিকেল ভর্তিতে কোটা পুনঃনিরীক্ষণ ও ফল পুনঃপ্রকাশের দাবি

২০২৪-২৫ সেশনের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বাতিল এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনঃনিরীক্ষণ করে ফলাফল পুনঃপ্রকাশের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। ভর্তি পরীক্ষায় কাট মার্ক ৭৩.৭৫ থাকা সত্ত্বেও ৪০ মার্ক পেয়ে কোটায় চান্স পাওয়ায় প্রশ্ন তোলেন তারা। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ঢাকা ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘মেডিকেলে কোটা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’-সহ নানা স্লোগান দেন তারা।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। তারা বলেন, "আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি, যে কোটাপ্রথা বাতিলের জন্য সহস্র ছাত্রজনতা শহীদ হলেন, সেই কোটা ব্যবস্থার বিলোপ এখনো হয়নি। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় এবার মুক্তিযোদ্ধা কোটার জন্য সীট বরাদ্দ করা হয়েছে ২৬৯টি, যা গতবার ছিলো ১০৮টি। যেখানে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কাট মার্ক ৭৩.৭৫, সেখানে ৪০ মার্ক পেয়ে মেডিকেলে কয়েকজন চান্স পেয়েছে। উপযুক্ত মার্ক না পেয়েও অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা কোটার মাধ্যমে দেশের শীর্ষস্থানীয় মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। আমরা এই বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নিব না। আজই প্রকাশিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনঃনিরীক্ষন করে যারা বৈষম্যমূলক কোটাপ্রথার মাধ্যমে চান্স পেয়েছে তাদেরকে বাদ দিয়ে নতুন করে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।"
সমাবেশে অধ্যাপক ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব বলেন, “গতকাল (রবিবার) মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনেকে চান্স পেয়েছে, ৪০, ৪১ পেয়ে। অথচ এর দ্বিগুণ পেয়েও অনেকে চান্স পায়নি। এটা কি বৈষম্য না? স্বৈরাচারের লোকেরা প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। আর তাদের ‘কুকাম’র প্রকাশ হলো গতকালের রেজাল্ট। আজকের মধ্যে সব ধরনের কোটার বিলুপ্তি ও ফলফল পুনঃপ্রকাশ করার দাবি জানাই।”
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আরিব হোসেন বলেন, “আগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কোটা থাকলেও সেখানে কাট মার্কের চেয়ে ১-২ মার্কের কম চান্স পেত। কিন্তু এ বছর নাতি-নাতনি কোটায় কাট মার্কের চেয়ে ৩০-৩৫ কম পেয়েও সরকারি মেডিকেলে চান্স পেয়েছে। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না, মানব না। আমরা মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ সব ধরনের কোটার বিলুপ্তি চাই।”