হানিমুন পিরিয়ড শেষ, চাপ বাড়ছে ইউনূস সরকারের: আইসিজি

  নিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিতঃ বিকাল ০৩:১১, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫, ১৭ মাঘ ১৪৩১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) জানাচ্ছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল, তবে বর্তমানে সেই সমর্থন কমতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সরকার এখন রাজনৈতিক বিভেদ মোকাবিলা এবং প্রতিশ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শেষ করতে আরও চাপের মধ্যে রয়েছে। একইসঙ্গে, দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রা নিয়েও সমালোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত আইসিজির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনূস সরকারের শুরুতে ব্যাপক জনসমর্থন ছিল, কিন্তু "হানিমুন পিরিয়ড" (মধুচন্দ্রিমা) শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে এবং সরকার এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।

আইসিজি আরও বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং তার সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহায়তা করতে পারে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি এবং নির্বাচনী অনিশ্চয়তার কারণে সরকার চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তার আগে বেশ কিছু সংস্কারের প্রয়োজন হবে। এ জন্য ইউনূস সরকারের অধীনে কয়েকটি কমিশন গঠন করা হয়েছে, যারা জানুয়ারির মাঝামাঝিতে তাদের সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে।

এছাড়া, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনও সংকটমুক্ত হয়নি। মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সরকারের কিছু সংস্কারের পদক্ষেপ ইতিবাচক ফলও দিচ্ছে, বিশেষত ব্যাংকিং খাতে উন্নয়ন এবং দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ। তবে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকলে অর্থনীতি আরও বিপদে পড়তে পারে।

আইসিজি আরও বলছে, বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক। ভারতীয় সীমান্তে উত্তেজনা এবং মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা এখনও সমাধান হয়নি, যা দেশের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

আইসিজি তার প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশের সামনে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ রয়েছে, তবে সেগুলো কাজে লাগাতে হলে রাজনৈতিক ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন অত্যন্ত জরুরি। ইইউ এবং তার সদস্য দেশগুলোর সহায়তায় বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন আরও ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে।

Share This Article