হোয়াইট হাউস কি ট্রাম্প ও মাস্কের ভার বইতে পারবে?

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর একই দিনে পবিত্র বাইবেলে হাত রাখবেন ধনকুবের ইলন মাস্কও। আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন সম্পর্ক, যেখানে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আসছেন এমন একজন উপদেষ্টার ছায়ায়, যিনি শুধু বিশ্বের শীর্ষ ধনী নন, বরং উচ্চাকাঙ্ক্ষা, কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি এবং গণমাধ্যমের ওপর প্রভাব রাখার দিক থেকেও ট্রাম্পের সঙ্গে বেশ মিল রাখেন।
এত মিল সত্ত্বেও প্রশ্ন উঠেছে, কি ওভাল অফিসে দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির উপস্থিতি সঠিকভাবে সামলানো সম্ভব হবে? শুধুমাত্র মাস্কের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতই নয়, তাদের এই সম্পর্কের ভিন্ন ভিন্ন দিকও আলোচনা তৈরি করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারাভিযানে মাস্কের অর্থায়ন ও সহযোগিতা তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। ট্রাম্প ও মাস্ক উভয়ই মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পছন্দ করেন, এবং তাদের কথাবার্তা ও কাজের মধ্যে বেশ কিছু বিতর্কিত উপাদান রয়েছে। মাস্ক এক্স (আগের টুইটার) মাধ্যমে ডানপন্থীদের জন্য একটি আশ্রয়স্থল তৈরি করেছেন, আর ট্রাম্পও রক্ষণশীল গণমাধ্যমের মাধ্যমে সহানুভূতি পেয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাস্কের রাজনৈতিক প্রভাব ট্রাম্পের ওপরও রয়েছে। তবে, লম্বা সময় ধরে একসঙ্গে কাজ করতে গেলে স্বার্থের সংঘাত ও বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে, এমন সতর্কতা দিয়েছেন ইতিহাসবিদরা।
ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য মাস্ককে যুক্ত করা তার সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা ও নিয়মনীতি তৈরি করার দায়িত্ব দিয়েছে। যদিও মাস্কের এক লাখ কোটি ডলার সাশ্রয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন, তবুও তিনি তা কার্যকর করার চেষ্টা করছেন।
এছাড়া, ট্রাম্প ও মাস্কের সম্পর্ক অনেকটা বিংশ শতাব্দীর প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতাদের মতো, যারা অর্থনৈতিক ক্ষমতার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তবে, এ সম্পর্কের পরিণতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষ করে ডানপন্থী আন্দোলনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা।
ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার আগেই মাস্ক ইতিমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, এবং তার সঙ্গে সিলিকন ভ্যালির ব্যবসায়ী বিবেক রামাস্বামীও যুক্ত হচ্ছেন। এই পরিবর্তনগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের পুরোনো সমর্থকরা আপত্তি জানাচ্ছেন।
মাস্ক, রামাস্বামী ও ট্রাম্পের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা এবং তাদের বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কিন অভিজাতদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।