ব্যাংক খাতে অনিয়মের সহযোগী ছিলেন ডেপুটি গভর্নরসহ অন্যরাও

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে, যা অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই খাতের তদারকির দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর। ১৫ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিনজন গভর্নরের বিরুদ্ধে অনিয়মে সহযোগিতার পাশাপাশি অবৈধ অর্থ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্প্রতি সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সম্পদের বিবরণী না দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। একই সময়ে বিএফআইইউর সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গৃহীত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যার কারণে পাচারকারীরা সুবিধা পেয়েছেন।
এস কে সুর চৌধুরী ও তার সহযোগী কর্মকর্তাদের অনুমোদনে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের হাতে চলে যায়, যা পরবর্তীতে লুটপাটের শিকার হয়। এছাড়া ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকেই ব্যাংক খাতে অনিয়ম শুরু হয়। ২০১৪ সাল থেকে ব্যাংক খাতে বেপরোয়া আচরণ বৃদ্ধি পায়, এবং ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক দখল হয়ে যায়। ব্যাংকগুলির তারল্য সংকট তৈরি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ ছাপিয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে লুট হয়ে যায়। গভর্নর ও ডিজিসহ কর্মকর্তারা এই সময় অতি উৎসাহ দেখান।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এসব অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) পরিচালক শাহ মো. আহসান হাবিব বলেন, "যেকোনো অনিয়ম হলে যাঁরা জড়িত, তাঁদের আইনের আওতায় আনতেই হবে। জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা না হলে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে না।"
বর্তমানে ব্যাংক খাতের ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে, এবং এটি কৃষ্ণগহ্বর (ব্ল্যাকহোল) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্যাংক খাতে দুর্দশা, রাষ্ট্রীয় সহায়তায় ব্যাংক দখল এবং অর্থ পাচার ঘটেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “যাঁরা অনিয়ম করেছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর কোনো কর্মকর্তা সুবিধাভোগী আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি।”