আমানতকারীকে সুরক্ষা দিতে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বন্ড

  নিজস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিতঃ সকাল ১১:৩৮, বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫, ১৬ মাঘ ১৪৩১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত


দেশের ব্যাংক খাতে বর্তমানে আমানতকারীর সংখ্যা ১৬ কোটি ছাড়িয়েছে। এসব আমানকারীর মধ্যে সিংহভাগের আমানতই ২ লাখ টাকার নিচে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যেই আমানত বীমার পরিমাণ ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। যদিও এই আমানত বীমাকে পর্যাপ্ত মনে করছেন না ব্যাংক গ্রাহক ও ব্যাংকাররা।
এদিকে আমানত বীমা পরিশোধের পরও কিছু আমানতকারীকে সুরক্ষা দিতে বন্ড ইস্যু করার চিন্তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই বন্ড ইস্যু করলে ব্যাংক গ্রাহকরা আমানতের বিপরীতে ট্রেজারি বন্ড পাবেন। এরপর এসব বন্ড ম্যাচিউড হওয়ার পর বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে নিজেদের অর্থ উঠিয়ে নিতে পারবেন আমানতকারীরা। তবে এসব কিছু বাস্তবায়ন হবে ব্যাংক সংস্কারে গঠিত বিভিন্ন টাস্কফোর্সের সুপারিশের উপর ভিত্তি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র বলছে, দেশের ব্যাংক খাতের দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদ নির্ণয়ে কাজ করছে কয়েকটি টাস্কফোর্স। এসব টাস্কফোর্স বিভিন্ন ব্যাংকে পরিদর্শন ও অডিটের পর আগামী জুন নাগাদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিবে। এরপর যদি কোন ব্যাংক বন্ধ বা একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয় তবেই আমানতকারীদের সুরক্ষায় বন্ড চালুর চিন্তা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে আমানত বীমার মাধ্যমে সুরক্ষা পাবে দেশের ৯৪ ভাগ আমানতকারী। 
এরপর নির্দিষ্ট কিছু আমানতকারীকে সুরক্ষা দিতে নতুন নীতিমালা করবে আর্থিক খাতের এই সংস্থা। সেক্ষেত্রে ৫-১০ লাখ টাকার আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতেই ইস্যু করা হতে পারে বন্ড। বন্ড ইস্যুর পর আমানতকারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে তাদের বন্ড সংগ্রহ করবে। এসব বন্ডের গ্রেস পিরিয়ড ৫-১০ বছর রাখা হতে পারে। অর্থাৎ কোন গ্রাহক বন্ড সংগ্রহ করার পর নির্দিষ্ট সময়ের পরই এসব বন্ড ভাঙিয়ে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। তবে বার্ষিক হারে সুদ উত্তোলনের ব্যবস্থা থাকতে পারে।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, গত ১০ বছর আগে থেকে আমি বলে আসছি এস আলমের ব্যাংকে আপনারা টাকা রাখবেন না। তারা ২ শতাংশ বেশি সুদ দিয়েছে বলে আপনারা টাকা রেখেছেন। বেশি সুদের আশায় আপনারা সেখানেই টাকা রেখেছেন, এখন ধরা খেয়েছেন। তবে আমরা আপনাদের উদ্ধার করবো, এজন্য সময় দিতে হবে। এখনই সেটি পারা যাবে না, আমরা ধাপে ধাপে করবো। ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের দিকে যাচ্ছি আমরা, কিছু ব্যাংক একীভূত করতে হবে। অনেক কিছু করা যাবে, এ বছরই হয়তো অনেক কিছু করা হবে। তবে আপনারা টাকা পান আর বন্ড পান, কিছু একটা পাবেন, মার যাবে না।
কিভাবে বন্ড ইস্যু করা হতে তার বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা। তিনি কালবেলাকে বলেন, কোন ফরমেটে বন্ড ইস্যু করা হতে তা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারি না। তবে আমানত বীমার মাধ্যমেই আমাদের দেশের সিংহভাগ আমানতকারী তাদের সুরক্ষা পাবে। এক্ষেত্রে আমানতকারীদের ব্যাংকে রাখা অর্থ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই শীর্ষ কর্তা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে আমানতকারী অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৬ কোটি ২০ লাখ ২৮ হাজার ২৫৫টি। এর মধ্যে ২ লাখ বা তার নিচে অর্থ আছে ১৫ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৭টিতে। আর বর্তমানে আমানত বীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ টাকা। অর্থাৎ আমানত বীমা বৃদ্ধির কারণে দেশের প্রায় ৯৩ দশমিক ৪০ শতাংশ আমানতকারীর অর্থই নিরাপদ হয়ে গেছে। কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হলে ২ লাখ টাকার কম আমানতকারীরা তাদের পুরো অর্থই ফেরত পাবেন। আর বেশি আমানতকারীরাও তাদের আমানতের বিপরীতে ফেরত পারেন ২ লাখ টাকা। পাশাপাশি নতুন নীতিমালায় যদি ১০ লাখ টাকার পর্যন্ত সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় তবে অবশিষ্ট অর্থের বিপরীতে পারেন রাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালবেলাকে বলেন, আমানতের সুরক্ষার বিষয়ে এখানো বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি ব্যাংক সংস্কারে গঠিত টাস্কফোর্সগুলো কোন ব্যাংক বন্ধ বা একীভূত করার পরামর্শ দেয় তাহলেই আমানতকারীদের সুরক্ষায় নতুন নীতিমালা করার চিন্তা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেক্ষেত্রে হয়তো বন্ড ইস্যুর বিষয়ে চিন্তা করা হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য একজন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, দেশে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ উর্ধ্বমূখী। এই মূহুর্তে ব্যাংক বন্ধ বা একীভূত করার জন্য টাকা ছাপানো খুবই কঠিন সিদ্ধান্ত হবে। এজন্য সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আমানতকারীরদের সুরক্ষা বিবেচনায় বন্ড ইস্যুর বিষয়েই নজর দিতে পারে। এতে সরকার নগদে টাকা ছাপানো থেকেও মুক্তি পাবে আবার আমানতকারীরাও সুরক্ষা পাবে। এক্ষেত্রে আমানতকারীরা বন্ড নগদায়ন করার জন্য ২-১০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আরফান আলী কালবেলাকে বলেন, ব্যাংকের গ্রাহকদের সুরক্ষায় যদি সরকার বন্ড ইস্যুর কথা চিন্তা করে এটা ভালো দিক। তা কি ফরমেটে হতে তা দেখতে হবে। গ্রাহক সুরক্ষায় আমানত বীমা আরও বাড়ানো যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
আর মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী নুরুল আমিন কালবেলাকে বলেন, গভর্নর বন্ড ইস্যুর বিষয়টি হয়তো আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর জন্য বলেছেন। আমাদের ব্যাংকগুলোকে সুরক্ষিত করতে হলে সর্ব প্রথম আস্থা ফেরানোর দিকেই নজর দিতে হবে। যদি ব্যাংক বন্ধ করা হয় তাহলে সেটা আমনতকারীদের মধ্যে আরও খারাপ বার্তা দিতে পারে। তবে দেশের আর্থিক খাত সুরক্ষায় ব্যাংক একীভূত করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, আমানত বীমা বা বন্ড ইস্যু করা হলেও শতভাগ আমানতকারীদের সুরক্ষা দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি আমানতকারীদের বিষয়ে বিবেচনায় নিবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর বড় আমনতকারীদের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা এখনো চিন্তা করছে সংস্থাটি। গত সেপ্টেম্বরে আমানত বীমা বৃদ্ধির ঘোষণার দিন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমানত বীমার পরিমাণ ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাধ্যমে প্রায় ৯৫ শতাংশ (সে সময়ের হিসাবে) আমানতকারীর আমানত সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ করা হয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশই ১০০ শতাংশ আমানতকারীর টাকার গ্যারান্টি দিতে পারে না। আমরাও পারব না। কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হলে ছোট আমানতকারীরা সঙ্গে সঙ্গে টাকা ফেরত পাবেন। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
আমানত বীমা কোন দেশে কত?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমানত বীমার পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন। প্রতিটি দেশের আর্থিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের আমানত বীমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের আমানত বীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আমানতকারীদের ৯৩ দশমিক ৪ শতাংশ সঞ্চয় সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করে। পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আমানত বীমার পরিমাণ ওই দেশের মুদ্রায় আড়াই লাখ ডলার। যুক্তরাজ্যে এর পরিমাণ ৮৫ হাজার ইউরো, কানাড়ায় ১ লাখ কানাডিয়ান ডলার এবং অস্ট্রেলিয়ায় ওই দেশি মুদ্রায় আড়াই লাখ ডলার।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের আমানত বীমা এবং ঋণ নিশ্চয়তা কর্পোরেশন (ডিআইসিজিসি) প্রতিটি আমানতকারীর জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়। শ্রীলঙ্কায় ৬ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপি, পাকিস্তানে ৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি এবং নেপালের আমানত বীমার পরিমাণ ৩ লাখ নেপালি রুপি।

Share This Article


ছবি: সংগৃহীত

সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে এডিএন টেলিকম

ছবি: সংগৃহীত

সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির শীর্ষে ডেল্টা স্পিনার্স

ছবি: সংগৃহীত

সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে প্রাইম ফাইন্যান্স ফান্ড

ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসা-বাণিজ্য তলানিতে, অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ

ছবি: সংগৃহীত

চাল আমদানির প্রভাব নেই খুচরা বাজারে, সঙ্কট তেলের

ছবি: সংগৃহীত

বন্ধ হতে যাচ্ছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ‘বিনিময়’ প্ল্যাটফর্ম

৩৬৮ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ, আইনি চাপে এস আলম পরিবার

ছবি: নতুন ধ্বনি

বায়িং হাউজের অনিয়ম ধরতে বস্ত্র দপ্তরকে অনুরোধ জানাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

আলফা ইসলামী লাইফকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

এস কে সুরের লকারে ডলার, ইউরো সোনা ও এফডিআরের কাগজ

ছবি: সংগৃহীত

খেলাপি ঋণের সময়সীমা বৃদ্ধি ও সুদহার কমানোর দাবি এফবিসিসিআইয়ের