বন্ধ হতে যাচ্ছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ‘বিনিময়’ প্ল্যাটফর্ম

দেশের প্রথম ইন্টার অপারেবল ডিজিটাল ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্ম ‘বিনিময়’ বন্ধ হওয়ার পথে। কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে চালু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই এটি কার্যকারিতা হারায়। বাংলাদেশ ব্যাংক প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে করা চুক্তি বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আইনি জটিলতা খতিয়ে দেখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিনিময়ের সঙ্গে আর চুক্তি রাখতে চায় না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে, এবং কোনো আইনি জটিলতা না থাকলে শিগগিরই এটি বাতিল করা হবে।
২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, "বিনিময় মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের শেল কোম্পানি। এটি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় এমএফএস আন্তলেনদেনব্যবস্থা এগোতে পারেনি।"
২০২০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক এনপিএসবি’র মাধ্যমে ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) যেমন বিকাশ, নগদ, রকেটের মধ্যে আন্তলেনদেন চালুর পরিকল্পনা নেয়।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে পরে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আইসিটি বিভাগ ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বিনিময়’ প্রকল্প গ্রহণ করে।
প্ল্যাটফর্মটি চালুর পরেও ব্যবহারকারী কম ছিল, কারণ:
সেবাগ্রহীতাদের পৃথকভাবে নিবন্ধন করতে হতো।
লেনদেনের জন্য অতিরিক্ত মাশুল দিতে হতো।
বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ফরমেটে ইন্টার অপারেবল ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। তবে সেটি এনপিএসবি’র সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।
বিনিময়ের সঙ্গে ১১টি প্রতিষ্ঠান চুক্তি করেছিল, যার মধ্যে ৮টি ব্যাংক ও ৩টি এমএফএস।
প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করে ওরিয়ন ইনফরম্যাটিকস লিমিটেড, মাইক্রোসফট বাংলাদেশ লিমিটেড, ফিনটেক সল্যুশন লিমিটেড ও সেইন ভেঞ্চারার্স লিমিটেড (জেভি)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, "নগদ টাকার সরবরাহ কমাতে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে হবে। তবে বিনিময়ের জটিলতার কারণে নতুন পরিকল্পনা নিতে হচ্ছে।"
তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।