অধিকারের জন্য দলিত, হরিজন ও তফসিলি সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে আসার আহ্বান

দলিত, হরিজন ও তফসিলি পরিষদের মানুষকে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজনীতির নেতৃত্বে আসতে হবে, অন্যথায় রাজনৈতিক দলগুলো কেবল ভোটের সময় তাদের গুরুত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কার্যালয়ে যোগেন মন্ডলের ১২২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা।
আলোচনায় জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, "যদি দলিত, হরিজন ও তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষ রাজনীতিতে সক্রিয় না হন, তাহলে তারা কেবল ভোটার হিসেবেই থেকে যাবেন। বিএনপি বা আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিকভাবে জায়গা দেবে না। তাই নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করতে যোগেন মন্ডলের মতো নেতার সৃষ্টি করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের ইতিহাস আওয়ামী লীগ নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে। ইতিহাসকে ছিনতাই করে জনগণের সত্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে।"
জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা মুজিববাদী সংবিধান সংশোধনের দাবি জানিয়ে বলেন, এটি জনগণের সকল শ্রেণির অধিকার সুরক্ষা দেয় না। নতুন সংবিধানে দলিত, হরিজন ও তফসিলি সম্প্রদায়ের অধিকার স্পষ্টভাবে সংযোজন করা উচিত।
সংস্কার কমিশন প্রসঙ্গে সারোয়ার তুষার বলেন, "রাষ্ট্রপতির কাছে উচ্চ পরিষদে পাঁচজন প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে মজলুম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কিন্তু যদি নির্বাচনের আগে সংস্কার না হয়, তাহলে দলিতরা কেবল ভোটার হিসেবেই থেকে যাবেন।"
জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা বলেন, "বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলই দলিত সম্প্রদায়ের জন্য কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তারা শুধু ভোটের সময় তাদের প্রয়োজন মনে করে।"
ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, "ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে সংবিধান ব্যবহার করেছে। সংবিধান পরিবর্তন ছাড়া প্রকৃত সমাধান সম্ভব নয়।"
আব্দুল্লাহ আল আলামিন বলেন, "দলিত ও তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষকে ভোটের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে রাজনীতির মূল নেতৃত্বে আসতে হবে। তা না হলে তারা কেবল ব্যবহৃত হয়েই যাবে।"
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—
- জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ
- যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আলামিন
- সহ-মুখপাত্র মুশফিক উস সালেহীন
- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি বিষয়ক সম্পাদক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ
- সম্পাদক (শ্রমিক সেল) মো. মাজহারুল ইসলাম
- দলিত, হরিজন ও তফসিলি পরিষদের আহ্বায়ক ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু
- কেন্দ্রীয় সদস্য জয়নাল আবেদীন শিশির
- আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সদস্য কৈলাশ চন্দ্র রবীদাস।
নেতারা বলেন, "রাজনীতিতে দলিতদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।"