ক্যান্সারের বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি; কার্যকর নাকি বিপদজনক?

ক্যান্সারের চিকিৎসায় বিকল্প পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই দাবি করেছেন, প্রথাগত চিকিৎসার পাশাপাশি খাবারে পরিবর্তন কিংবা বিকল্প থেরাপি গ্রহণ করে তারা ক্যান্সারমুক্ত হয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এসব পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং সঠিক চিকিৎসার সঙ্গে এর ব্যবহার রোগীদের ক্ষতি করতে পারে।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ নভজিৎ সিং সিধু সম্প্রতি জানিয়েছেন, তার স্ত্রী ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার স্ত্রীর প্রতিদিনের খাবারে লেবুপানি, কাঁচা হলুদ, অ্যাপল সিডার ভিনেগার, নিমপাতা, তুলশি, মিস্টি কুমড়া, ডালিম, আমলকি, বিটরুট, এবং আখরোটের মতো উপাদান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সিধুর এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ভারতের দুই শতাধিক ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন, যেখানে তারা জানান, এসব প্রাকৃতিক উপাদানের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা চলছে, তবে তাদের কাছে এর কার্যকারিতার প্রমাণ নেই। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, এসব উপাদানের ওপর নির্ভর করলে মূল চিকিৎসা বিলম্বিত হতে পারে, যা রোগীকে আরও বিপদে ফেলতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার ডেল এলি ম্যাকফারসন, যিনি স্তন ক্যান্সারের রোগী ছিলেন, কেমোথেরাপির পরিবর্তে বিকল্প চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তার মতো অনেকে কেমোথেরাপির পাশাপাশি আকুপাংচার, যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন ব্যবহার করেন, যা ব্যথা কমাতে ও মানসিক স্বাস্থ্যে সহায়ক হতে পারে। তবে চিকিৎসকরা এ ধরনের বিকল্প পদ্ধতিকে মূল চিকিৎসার পরিপূরক হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন, প্রধান চিকিৎসা বাদ দিয়ে নয়।
বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার চিকিৎসা সেবায় যুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠান দাবি করছে, কিছু বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি বিপজ্জনক হতে পারে এবং এর মাধ্যমে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ২০১৮ সালে জামা অঙ্কোলজি পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়, বিকল্প চিকিৎসায় নির্ভর করে রোগীদের ক্যান্সার থেকে বাঁচার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
তবে, ক্যান্সার চিকিৎসায় বিকল্প পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ কমেনি। আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজি (এএসসিও) এর একটি জরিপে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ক্যান্সারের বিকল্প চিকিৎসায় নিরাময়ের সম্ভাবনা বিশ্বাস করেন। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে 'ক্যান্সার নিরাময়কারী ডায়েট' নিয়ে প্রচুর ভিডিও ও বইয়ের বিক্রি বাড়ছে।
ক্যান্সার চিকিৎসায় বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞরা একযোগে পরামর্শ গ্রহণের কথা বলছেন। ম্যাকমিলান ক্যান্সার চ্যারিটি জানিয়েছে, বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বন করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।